বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ নিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা এবং সৌদি আরব থেকে তেল সরবরাহ আংশিকভাবে স্বাভাবিক হওয়ার খবরে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে ব্রেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ২ শতাংশেরও বেশি কমে ১০ সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, ইরান যুদ্ধের উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ আসতে পারে—এমন আশায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। একই সঙ্গে হুতিদের হামলা অব্যাহত থাকলেও সৌদি আরব থেকে তেল সরবরাহ আংশিকভাবে স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
সোমবার সকালে ব্রেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১০ সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। এদিন বাংলাদেশ সময় সোয়া আটটার দিকে ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৭১ ডলারে দাঁড়ায়। আগের দিনের তুলনায় দাম কমেছে ২ দশমিক ১৬ ডলার বা ২ দশমিক ০৮ শতাংশ।
অন্যদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম কমেছে ২ দশমিক ১৫ ডলার বা ২ দশমিক ১৪ শতাংশ। এতে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৯৮ দশমিক ১৫ ডলার।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার রয়টার্সকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের উত্তেজনা কমাতে এ সপ্তাহে কূটনৈতিক উদ্যোগ আসতে পারে—এমন আশায় তেলের দামে বিদ্যমান ঝুঁকির অংশ কমে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে এই আশা বাস্তবে কতটা যুক্তিসংগত, সেটি ভিন্ন বিষয়। সময়ই তা বলে দেবে।’
এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, সর্বশেষ জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী শনিবার ও রোববার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মোট ১২টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। আগের সপ্তাহান্তে এই সংখ্যা ছিল ৩৫টি। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে জাহাজ চলাচল প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কমেছে।
রোববার ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, জুনে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিশ্রুতি পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে।
এদিকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধও অব্যাহত রয়েছে।এর আগে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালিতে হুমকির মাত্রা এখনো গুরুতর পর্যায়ে রয়েছে। গত তিন দিনে এই সমুদ্রপথে জাহাজে অন্তত তিনটি হামলার খবর পাওয়া গেছে।
টিএস/এএইচ